ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের গত সপ্তাহে শেয়ারদর ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে। সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির সমাপনী শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১০ পয়সায়, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ টাকা ৯০ পয়সা। এতে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দরপতনের তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৬৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৩১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৯৯ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি প্রাইম ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ১৪ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি প্রাইম ফাইন্যান্স। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৯ হিসাব বছরে উদ্যোক্তা পরিচালক বাদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর আগের চার হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটি। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৪ হিসাব বছরে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।
প্রাইম ফাইন্যান্সের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি থ্রি’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।
২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রাইম ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২৭২ কোটি ৯১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৮২ কোটি ৭ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২৭ কোটি ২৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৩। এর ৫৯ দশমিক ১৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক শূন্য ১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩৩ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।